কলকাতা 

দল ভাঙানোর খেলার মাশুল দিতে হলো অভিষেক ও মমতাকে!

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : শুরু করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মুকুল রায় যখন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি প্রথম দল ভাঙ্গানোর খেলা শুরু করেছিল। তারপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর বিরোধী দলগুলোকে নিকেশ করার চেষ্টা করেছেন। আই সেই খেলার মাসুল আজ গুনতে হলো তৃণমূল কংগ্রেসকে। কার্যত পুরো তৃণমূল কংগ্রেস দলটাকে ই হাইজ্যাক করে নিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর পছন্দের একমাত্র নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একবারের জন্যেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পারেননি, ঋতব্রতের এই কাজকর্ম।

অথচ এই নেতাকেই যখন সিপিএমের মোহাম্মদ সেলিমরা বিতাড়িত করেছিলেন তখন এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নানা অভিধায় অভিহিত করেছিল সিপিএমকে। সিপিএমের শূন্য হয়ে যাওয়ার কারণ নানা ভাবে ব্যঙ্গ করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নীরবে সে কাজটি করে গিয়েছিলেন সমর্থন। একবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে হয়নি যে দলটি এই নেতাকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে রাজ্য সভায় পাঠিয়েছে সেই দলের শৃঙ্খলা না মানার কারণে বহিষ্কৃত করার পর তাকে কিভাবে দলে নেয়া হবে। কিংবা কংগ্রেস থেকে নিয়ে আসা সাবিনা ইয়াসমিন থেকে শুরু করে আখরুজ্জামান পর্যন্ত এদের দেহ তৃণমূলে থাকলেও মন পড়েছিল কংগ্রেসে। এই সুযোগে আপনাদের একটা কথা বলে দিন যে তৃণমূল কংগ্রেস আজ নতুন দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে সেই দলটি ও আগামী দিনে ভেঙে যাবে। এদের একটা বড় অংশ চলে যাবে আবার কংগ্রেসে।

আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ইগোকে বজায় রাখার জন্য এবং কংগ্রেসের প্রতি তার দূরত্ব রাখার কারণে আজকে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইচ্ছা করলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে নিজেকে শক্তিশালী করতে পারতো। তা তিনি করেননি বরং বাংলা থেকে কংগ্রেসকে উচ্ছেদ করে কংগ্রেসকে শূন্য করার অভিপ্রায় নিয়ে তিনি যে যাত্রা শুরু করেছিলেন সেই যাত্রার প্রতিক্রিয়া হচ্ছে আজ তৃণমূল শূন্য হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনের তৃণমূলের অস্তিত্ব যে পশ্চিমবাংলায় বিপন্ন হবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়। তবে এটা ভালো লক্ষণ নয় যে বিরোধীদলকে জনগণ যাকে দেখে জনগণ ভোট দিল তার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে এই সকল জনপ্রতিনিধিরা কতদিন মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য থাকবে তা নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন রয়েছে।

আসলে নিজে যা করেছেন যে অন্যায় করেছেন তারই প্রতিক্রিয়ায় আজকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের চোখে দেখে গেলেন তার দলের পতন। এজন্যেই বলা হয়ে থাকে ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে নিজেকে অনেক বেশি আত্ম সংযম দেখাতে হয় অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হয়। সেই দায়িত্বশীল হতে না পাওয়ার কারণেই এই দলের পতন কে নিজের চোখে দেখে ফেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটু সচেতন হলে বিরোধী দলগুলোর প্রতি বিশেষ করে কংগ্রেস ও সিপিএমের প্রতি সামান্য সহানুভূতি দেখালে আজকে এই দিনটা যে মমতা অভিষেককে দেখতে হত না। তা নিয়ে কোন বলার অপেক্ষা রাখে না।

শুভেন্দুর কাছ থেকে রাজনীতিটা শিখে নিতে পারেন মমতা। কারণ শুভেন্দু শুধু মমতার দলকে ভেঙে বিজেপিকে বার্তা পাঠালেন আগামীদিনেই যদি তাকে মুখ্যমন্ত্রীর পর থেকে সরানোর কোন চেষ্টা করা হয়। তাহলে এদেরকে নিয়ে সে আবার নতুন সরকার গঠন করে নিতে পারবে। এই চিন্তা ভাবনাটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেয়ে অনেক উন্নতমানের চিন্তা ভাবনা বলে আমাদের মনে হয়েছে। এখন দেখার বিষয় এই নয়া তৃণমূল দলটি এই রাজ্যের বিরোধী দল হিসাবে কতখানি বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন মানুষের কাছে, সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ